logo

বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন

বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন - সংবিধান


📝 সূচিপত্রঃ


  • অধ্যায় ১ : সাধারণ বিধান
  • অধ্যায় ২ : লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • অধ্যায় ৩ : ফাউন্ডেশনের কাঠামো
  • অধ্যায় ৪ : সদস্য পদ
  • অধ্যায় ৫ : অর্থনীতি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা
  • অধ্যায় ৬: শৃঙ্খলা ও কার্যপ্রণালী
  • অধ্যায় ৭: কর্মপদ্ধতি ও পর্যালোচনা

📜 বিশেষ কৃতজ্ঞতা:


আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া, যিনি আমাদের এই দ্বীনভিত্তিক পথ দেখিয়েছেন। সকল সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীগণ, যাঁদের দোয়া ও পরামর্শে সংবিধানটি রূপ পেয়েছে।

🕌 নীতিবাক্য :


"যারা আল্লাহর পথে সংগঠিত হয়ে কল্যাণের আদেশ দেয় ও অকল্যাণ থেকে বিরত রাখে, তারাই সফলকাম।” (সূরা আলে ইমরান – ১০৪)

শপথ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيِم

আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।


আমি, .................................................
আল্লাহ তাআলার নামে শপথ করে দৃঢ় অঙ্গীকার করিতেছি যে—

  • আমি বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন-এর একজন বিশ্বস্ত ও আদর্শ সদস্য হিসেবে,
  • ফাউন্ডেশনের সংবিধান, আদর্শ ও সকল নীতিমালা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে মেনে চলিবো।
  • ইসলামি শরিয়াহর আলোকে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে আমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করিবো।
  • সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করিবো এবং অন্যায়, দুর্নীতি, অনাচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করিবো।
  • আমি গরীব, দুঃস্থ, অসহায়, রোগাক্রান্ত, এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াবো।
  • আমি দান, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষাপ্রসার, দাওয়াহ ও সামাজিক উন্নয়নের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখিবো।
  • ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে, আমি সমাজ ও মানবতার কল্যাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করিবো।
  • আমি সত্য বলিবো, গীবত,অপপ্রচার ও দলাদলি পরিহার করিবো।
  • সকল সদস্যের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখিবো এবং একতা ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকিবো।
  • আমি কোনো দায়িত্ব পেলে, তা আমি আমানত মনে করে পালন করিবো এবং তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করিবো।

আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা:


🤲 হে আল্লাহ! আমাকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে অটল রাখুন। আমার কাজকে কবুল করুন এবং আমাদের এই ফাউন্ডেশনকে আপনার রহমতের ছায়ায় রাখুন। (আমিন)

  • স্বাক্ষর: ..................................................
  • তারিখ: ...................................................

  • সংবিধান

    بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيِم

    আলহামদুলিল্লাহি ওয়াস,সালাতু ওয়াস,সালামু ‘আলা রসূলিল্লাহ।

    আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।

    সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উপর।


    বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর সংবিধান

    (শরিয়া ভিত্তিক একটি অ-রাজনৈতিক, অ-গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক সংগঠন)


    🔹 ভূমিকা


    🔹 সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি মানবজাতিকে পরস্পরের সাহায্যকারী ও দয়া প্রদর্শনকারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। দরুদ ও সালাম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি, যাঁর আদর্শ মানব কল্যাণের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত।

    🔹 আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণে একটি সমাজগঠনের লক্ষ্যে এই ফাউন্ডেশন গঠন করছি।

    🔹 মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র-অসহায়দের সাহায্য করা, ইসলামী জ্ঞানে সমাজকে আলোকিত করা এবং দাওয়াহ প্রচারে অবদান রাখা—এ সবই একজন মুসলিমের ফরজ দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এই মহান উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন”।

    🔹 এই সংবিধানটি আমাদের সংগঠনের আদর্শ, কাঠামো, নীতিমালা ও কার্যপ্রণালির একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা, যা কুরআন, সহীহ হাদীস এবং সালাফে সালেহিনের পথ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।

    🔹 আল্লাহ আমাদের সকলকে একাগ্রতা, আন্তরিকতা ও নিয়মিততা সহকারে এই মহৎ কাজে অব্যাহত রাখুন। (আমীন)।

    🔹 অধ্যায় ১: সাধারণ বিধান


  • ধারা ১: সংগঠনের নাম “বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন

  • ধারা ২: ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে সম্পূর্ণ শরিয়া ভিত্তিকভাবে।

  • ধারা ৩: এই ফাউন্ডেশন কোনো রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে না।

  • ধারা ৪: সকল কার্যক্রম কুরআন, সহিহ হাদীস ও সালাফে সালেহিনের পথ অনুযায়ী হবে।

    🔹 অধ্যায় ২: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য


  • ধারা ৫: সমাজকে কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে গঠন করা। সমাজে যেসব অনৈতিকতা ও ন্যায়ের অভাব, ইত্যাদি আছে—সে সবকে দূর করে ইসলামী আদর্শে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা।

  • ধারা ৬: দরিদ্র, অসহায়, বিধবা ও এতিমদেরকে সাধ্যমত আর্থিক, খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

  • ধারা ৭: ইসলামী শিক্ষা, সহিহ দাওয়াহ ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

  • ধারা ৮: তরুণ প্রজন্মকে চারিত্রিক, নৈতিক ও আখলাকি উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

  • ধারা ৯: মানব কল্যাণের উদ্দেশ্য। এই ফাউন্ডেশন মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ও সমস্যার পাশে দাঁড়িয়ে—সহানুভূতি, সহানশীলতা ও ইসলামী দায়িত্ববোধ থেকে মানবতার কল্যাণে কাজ করবে।

    🔹 অধ্যায় ৩: ফাউন্ডেশনের কাঠামো


  • ধারা ১০: ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে থাকবেন একজন আমীর। তিনি শূরা বোর্ডের সিদ্ধান্তে মনোনীত হবেন, কোনো ভোট বা নির্বাচনে হবেন না।

  • ধারা ১১: শূরা বোর্ড এটি পরামর্শদাতা বোর্ড, যারা জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমীরকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

  • ধারা ১২: ফাউন্ডেশন এর বিভাগসমূহ: দাওয়াহ ও শিক্ষা, অর্থ ও হিসাব, সদস্যতা ও তদারকি, সাহায্য ও খিদমাহ।

    (ভবিষ্যত প্রয়োজনে)



  • ধারা ১৩: সকল সদস্যকে আমীরের নির্দেশনা মানতে হবে। যতক্ষণ না তা শরিয়াহর পরিপন্থী হয়।

    🔹 অধ্যায় ৪: সদস্য পদ


  • ধারা ১৪: সদস্য হতে হলে – মুসলিম - (বালেগ) সুস্থ বিবেকসম্পন্ন হতে হবে ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্যে একমত হতে হবে।

  • ধারা ১৫: সদস্যের তিন ধরন: সাধারণ সদস্য, সক্রিয় সদস্য, মূল(Core)সদস্য।

  • ধারা ১৬: সদস্যতা বাতিলের কারণ: শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে, শরিয়াহ বিরোধী কার্যকলাপ করলে।

  • ধারা ১৭: সদস্যতা যাচাই - বাছাই কাকে সদস্য করা হবে বা কাকে বাদ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে শূরা বোর্ড।

    🔹 অধ্যায় ৫: অর্থনীতি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা


  • ধারা ১৮: অর্থ সংগ্রহ: হালাল উপায়ে সংগৃহীত অর্থ যেমন: যাকাত সদকাহ অনুদান হালাল প্রকল্প থেকে আয় হতে হবে।

  • ধারা ১৯: হারাম আয়ের বর্জন সুদ, হারাম ব্যবসা বা অবৈধ উপায়ে আসা অর্থ গ্রহণযোগ্য নয়।

  • ধারা ২০: অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা প্রতিটি অর্থ ব্যয়ের আগে অনুমোদন এবং হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

  • ধারা ২১: মাসিক রিপোর্ট প্রতিমাসে আয়-ব্যয়ের রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে।

  • ধারা ২২: বার্ষিক অডিট প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে সমস্ত আয়-ব্যয়ের অডিট হবে, যাতে অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম না থাকে।

  • ধারা ২৩: বর্তমানে সংগঠনের পক্ষ থেকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ধার দিতে বা নিতে পারবে না। সংগঠনের অর্থ কেবল সংগঠনের প্রকল্পে ও মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হবে। (সময় অনুযায়ী পরিবর্তনশীল)

    🔹 অধ্যায় ৬: শৃঙ্খলা ও কার্যপ্রণালী।


  • ধারা ২৪: আমীরের শরিয়াসম্মত নির্দেশ সকল সদস্যের জন্য মান্য। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আমীরের আদেশ অমান্য করলে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ধারা ২৫: গোপন তথ্য বা সিদ্ধান্ত ফাঁস করা দণ্ডনীয়। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বা আর্থিক/প্রশাসনিক তথ্য কোনো সদস্য বাইরের কারও কাছে প্রকাশ করতে পারবে না।

  • ধারা ২৬: সংগঠন ইসলাম বিরোধী চিন্তা, বিদআত, এবং রাজনৈতিক_দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থাকবে। কেউ এই ধরণের কার্যক্রমে জড়ালে তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

  • ধারা ২৭: সংগঠনের কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চলবে। দাওয়াহ, সভা, সেমিনার ও কার্য পরিচালনা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

  • ধারা ২৮: সকল সিদ্ধান্ত দায়িত্বশীলদের পরামর্শক্রমে গ্রহণ করা হবে।আমীর এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন না; বরং শূরা বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

  • ধারা ২৯: দায়িত্বের অপব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংগঠনের যেকোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি নিজের দায়িত্বের অপব্যবহার করে, তাকে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ধারা ৩০: সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হলে সদস্যপদ বাতিল হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা সংগঠনের শান্তি বিনষ্ট করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    🔹 অধ্যায় ৭: কর্মপদ্ধতি ও পর্যালোচনা


  • ধারা ৩১: ফাউন্ডেশনের যে কোনো কাজ, প্রকল্প, সাহায্য, উদ্যোগ বা দাওয়াহ কর্মসূচি—সবকিছু শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে করা হবে, লোক দেখানো, প্রশংসা পাওয়া, বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়।

  • ধারা ৩২: আমাদের সকল কাজের কেন্দ্রবিন্দু :
    (ক) ইসলামী দাওয়াহ – মানুষকে তাওহিদ, সহিহ আক্বিদা ও ইসলামের পথে আহ্বান করা।
    (খ) সমাজসেবা – গরিব, এতিম, বিধবা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান।
    (গ) মানব কল্যাণ – ধর্ম, জাতি নির্বিশেষে মানবতার কল্যাণে কাজ করা।
    (ঘ) শিক্ষা ও চরিত্র গঠন – শিশু, কিশোর ও যুব সমাজকে ইসলামী আদর্শে গঠন করার জন্য শিক্ষা, হালাকাহ, প্রশিক্ষণ ও নৈতিকতার বিকাশে কাজ করা।
    (ঙ) ফিতনা ও বিপথগামীতা থেকে হেফাজত – সমাজে প্রচলিত বিদআত, কুসংস্কার, অপসংস্কৃতি ও বিভ্রান্ত মতবাদ থেকে মানুষকে সতর্ক করা এবং কুরআন-হাদীসের ভিত্তিতে সংশোধনের চেষ্টা করা।

  • ধারা ৩৩: নতুন আইন প্রণয়ন বা পরিবর্তন শুধুমাত্র দায়িত্বশীলদের শূরা পরামর্শের মাধ্যমে সম্ভব। কোনো একক ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে নতুন আইন সংযোজন বা পরিবর্তন করতে পারবে না।
  • 🔹 সমাপ্তি ধারা


    এই সংবিধান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, উম্মাহর সেবা ও সমাজে ইসলামী আদর্শ কায়েমের লক্ষ্যে রচিত। কোনো ধারা শরিয়াহবিরোধী প্রমাণিত হলে তা বাতিলযোগ্য এবং সংশোধনযোগ্য হবে।